বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১১

কুমিল্লার ৯৮ কি.মি. ঝুঁকিপূর্ণ

কুমিল্লার ৯৮ কি.মি. ঝুঁকিপূর্ণ

দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কে খানাখন্দে ভরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উ দেশের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কে খানাখন্দে ভরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিঞাবাজার এলাকার 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার ৯৮ কিলোমিটার অংশজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। সড়কের অনেক স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। কয়েক জায়গায় ফাটলও ধরেছে। এতে মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত মহাসড়কের ওই অংশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি চালক ও যাত্রীরা যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা করছেন। এ সমস্যা সমাধানে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর বিটুমিনাস লেয়ার করছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজারে মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশে কাদা জমে আছে। সেখানে গর্তের পাশাপাশি মহাসড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। ওই উপজেলার আমানগন্ডা, চৌদ্দগ্রাম বাজার, চিওড়া ও বাতিশা এলাকায় মহাসড়কের মধ্যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এসব এলাকায় মহাসড়ক উঁচু-নিচুও হয়ে গেছে।
সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কে ফাটল রয়েছে। চান্দিনা বাজার এলাকায় সড়কে অনেক গর্ত দেখা গেছে। উপজেলার মাধাইয়া বাজারে কমপক্ষে ১০টি বড় গর্ত রয়েছে। এসব গর্তে কিছু ইট এনে ফেলে রাখা হয়েছে। সেখানেও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
আমানগন্ডার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, সওজ কর্তৃপক্ষ গর্তের মধ্যে কিছু ইট ও সুরকি ফেলে দেয়। এরপর বৃষ্টি এলে এগুলো ধুয়ে চলে যায়। তখন আগের অবস্থায় ফিরে যায় সড়ক।
মিয়াবাজারের বাসিন্দা অধ্যক্ষ মীর হারুন উর রশীদ বলেন, এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করাই দায়।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজা থেকে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘যুদ্ধজয়’ পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার ১ নম্বর প্রকল্পের অধীনে, ‘যুদ্ধজয়’ থেকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিশা পর্যন্ত ৪১ কিলোমিটার ২ নম্বর এবং বাতিশা থেকে ফেনীর মোহাম্মদ আলী পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার অংশ ৩ নম্বর প্রকল্পের অধীনে। অর্থাৎ, মহাসড়কের ৯৮ কিলোমিটার অংশই তত্ত্বাবধান করছে সওজের অধীনস্থ চার লেন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।
১ নম্বর প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সামছুদ্দিন নান্নু বলেন, দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে কুমিল্লা সেনানিবাস পর্যন্ত চারটি স্থানে গর্তসহ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গৌরীপুর, মাধাইয়া, চান্দিনা বাজার ও সেনানিবাস এলাকায় মহাসড়ক কিছুটা খারাপ। তাঁরা ইট-সুরকি ফেলে তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন। বৃষ্টি কমে গেলে বিটুমিনাস লেয়ার দেওয়া হবে।
২ নম্বর প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাসুদ সারওয়ার  বলেন, এ মুহূর্তে মহাসড়কের সমস্যা সমাধানে বিটুমিনাস লেয়ার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে চার লেনের কাজও এগিয়ে চলছে। বৃষ্টির কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। মহাসড়ক যুগোপযোগী করতে এর মধ্যে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি মিয়াবাজার এলাকায় বসানো হয়েছে। বৃষ্টির ভাব কেটে গেলে পুরোদমে কাজ হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামত শুরু হবে।
সওজের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান গতকাল বিকেলে  বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। কুমিল্লার ৯৮ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যে চার লেন প্রকল্পে ঢুকে গেছে। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের বিষয়টি চার লেন কর্তৃপক্ষই দেখে থাকে। এক বছর আগেই সড়কটি ওদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০১১

bangladesh

কুমিল্লা

পায়ে লিখে এইচএসসিতে শারীরিক প্রতিবন্ধীর সাফল্য

পায়ে লিখে এইচএসসিতে শারীরিক প্রতিবন্ধীর সাফল্য


কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর আকবর আলী খান কারিগরি বাণিজ্যিক কলেজের ছাত্র শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. আমিনুল ইসলাম পায়ে লিখে পরীক্ষা দিয়ে এইচএসসি সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ- ৪.১ পেয়েছে। শারীরিক অক্ষমতা আমিনুলের সাফল্যের সামনে বাঁধা হতে পারেনি। তার দুটি হাত কাজ না করলেও অধম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে পায়ে কলম ধরে পরীক্ষায় দিয়ে এ বছর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাফল্য পেয়েছে সে। জানা যায়, জন্ম থেকে তার হাত-পা বাঁকা। শিশুকালে হারিয়েছে বাবাকে। মা বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে আয়ার কাজ করে কোনো মতে সংসার চালাচ্ছেন। এর মধ্যে আমিনুল টিউশনি করে এবং প্রতি শুক্রবারে বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের আর্থিক সাহায্য নিয়ে লেখাপড়ার খরচ চালায়।  এর আগে সে নরসিংদীর সুদিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পায়ে লিখেই এসএসসি সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৩.২০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। তার প্রবল ইচ্ছা লেখাপড়া শেষ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার। প্রমাণ করতে চান শারীরিক প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়।
জানা গেছে, নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার শিদিরপুর গ্রামে আমিনুল ইসলামের জন্ম। মায়ের কর্মস্থলের সুবাদে নরসিংদী থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বসবাস করছে সে।
আমিনুল ইসলাম দুঃখ করে বলেন, অনেক সংগ্রাম করে এ পর্যায়ে এসেছি। জানি না পরবর্তীতে কিভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাব।
গৌরীপুর আকবর আলী খান কারিগরি বাণিজ্যিক কলেজের প্রভাষক গোলাম মোস্তফা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও ছেলেটি খুব মেধাবী ও পরিশ্রমী। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে কলেজ তাকে যাবতীয় সহযোগিতা করেছে। সহযোগিতা পেলে সে লেখাপড়ায় আরো এগিয়ে যাবে। তিনি সমাজের বিত্তবানদের আমিনুলের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান।