‘সাকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা যেতে পারে’
‘সাকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা যেতে পারে’
খালেদা জিয়ার ঢাকা সেনানিবাসের বাড়ি দেওয়া-নেওয়ার এখতিয়ার সেনাবাহিনীরই বলে মন্তব্য করায় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এ মন্তব্য ‘আদালত অবমাননার’ শামিল।
সুরঞ্জিত বলেন, “সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি নিয়ে সরকার, আদালত কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু করার নেই। এই বিতর্কের সুরাহা করার এখতিয়ার কেবল সেনাবাহিনীরই.. এই বক্তব্যের অর্থ হলো সেনাবাহিনীকে আলাদা গোত্র হিসাবে চিহ্নিত করা।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে সাকা চৌধুরী রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে সেনাবাহিনীকে ‘ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত’ করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়িটি খালেদাকে ছেড়ে দিতে ১৩ অক্টোবর আদালতের আদেশের পর চলমান আলোচনার মধ্যেই বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী রোববার সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে তার মতামত তুলে ধরেন।
সালাউদ্দিন বলেন, “এই বাড়িটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকারের মাথা ঘামানোর বিষয় নয়। এনিয়ে আমাদের রাজনীতিবিদদেরও বির্তকে যাওয়া ঠিক নয়। এটা সেনাবাহিনীর ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত।”
সুরঞ্জিত এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে বলেন, নির্বাহী বিভাগের একটি অংশ হচ্ছে সেনাবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকার এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ- আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ থেকে সেনাবাহিনীকে আলাদা করার ধারণা তিনি কোত্থেকে পেলেন?”
“সংবিধান অনুসারে প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। আর সেনাবাহিনী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী বিভাগের একটি অংশ,” বলেন সুরঞ্জিত।
খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তরের দেওয়া নির্দেশ ঠেকাতে বিএনপি আদালতে গিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সুরঞ্জিত বলেন, “তিনি এমন সময় এ মন্তব্য করলেন যখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হয় নি। যা আদালত অবমাননার শামিল।”
এ ব্যাপারে আদালতে রায় তাদের পক্ষে গেলে বিএনপি এটাকে আইনের শাসনের উদাহরণ হিসাবে আখ্যায়িত করত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জ্যেষ্ঠ এই আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, “আদালতের রায় তাদের বিপক্ষে যাওয়ায় তারা এখন খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি নিয়ে বিতর্কের সুরাহা আদালতের বাইরে করতে চায়।”
তিনি বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া রায় চ্যালেঞ্জ করে বিএনপি সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে।
সেনানিবাসের মইনুল সড়কের বাড়ি ছাড়তে সরকারের দেওয়া নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদার করা রিট আবেদন খারিজ করে গত ১৩ অক্টোবর রায় দেয় হাইকোর্ট।
২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেয় সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৩ মে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন