শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১১

হরতালে শক্তি দেখাতে চায় বিএনপি-জামায়াত

হরতালে শক্তি দেখাতে চায় বিএনপি-জামায়াত

রোববারের হরতালে শক্তি দেখাতে চায় বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামী। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হরতাল সফল করতে দলীয় প্রস্তুতি সরাসরি তদারক করছেন বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপির নেতারা মনে করেন, দেশের মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে। তাই এই দাবিতে ডাকা কালকের হরতাল সফল করার ওপর নির্ভর করছে দলটির ভবিষ্যৎ আন্দোলন কর্মসূচি।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শীর্ষনেতাদের গ্রেপ্তারের পর ব্যাপক চাপে পড়ে জামায়াত। দলটি এক বছর ধরে অনেকটা চুপচাপ ছিল। এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দলটি বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে শক্তি প্রয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমান সরকারের আমলে এটি জামায়াতের প্রথম হরতাল কর্মসূচি।
কালকের হরতালে বাধা দিলে আবারও হরতাল কর্মসূচি ঘোষণার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল দুটি।
তবে বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, সংসদের চলতি অধিবেশনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনসংক্রান্ত বিলের ওপর তাঁদের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করছে। বিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখা হলে বিএনপি তাদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে কৃতিত্ব নেবে। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখা না হলে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে দলটি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সরকারের বর্তমান অবস্থার বিরুদ্ধে আরও শক্ত কর্মসূচির কথা ভাবছি।’
এর আগে বিএনপির ডাকা তিনটি হরতালই দলটি এককভাবে পালন করেছে। আগের হরতালগুলোর দুটি ছিল খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি রক্ষা এবং একটি হরতাল ছিল খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে। ওই তিনটি হরতাল সরকারের ওপর তেমন চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি।
এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক মাঠ নিজেদের পক্ষে নিতে চায় বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় খালেদা জিয়া হরতাল কর্মসূচি কঠোরভাবে পালনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতির নির্দেশ দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, কালকের হরতাল বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই হরতাল ভবিষ্যতে বিএনপির জন্য আন্দোলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। তিনি এই হরতালকে সরকারের জন্য সতর্কসংকেত বলে দাবি করেন।
দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখতে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির কাছে প্রস্তাব দেওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে দলটি।
বিএনপির সাংগঠনিক বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা কয়েকজন নেতা জানান, কালকের হরতালকে তাঁরা সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এ জন্য সারা দেশের বিএনপি নেতাদের মাঠে নামতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে হরতাল সফল করতে মহানগর শাখা ও ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের হরতালের দিন মাঠে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বিএনপি এই হরতাল কঠোরভাবে পালন করবে।
জামায়াতের তৎপরতা: কালকের হরতাল কর্মসূচি সামনে রেখে জামায়াত গোপনে সাংগঠনিক নানা প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
১ জুন সংবাদ সম্মেলন ডেকে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণার পর জামায়াতের নেতারা অনেকগুলো বৈঠক করেছেন। এই কর্মসূচি সামনে রেখেই গতকাল ঢাকা মহানগর জামায়াতের থানা পর্যায়ের আমির সম্মেলন হয়। এর আগে দলের শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়।
দলটি হরতালে ছাত্রশিবিরকে ব্যাপকভাবে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেছেন, ‘হরতালে ছাত্রশিবির অবশ্যই মাঠে থাকবে।’
দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির মতো জামায়াতও কালকের হরতালকে তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। এ কারণে হরতালে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে জামায়াত দলের সহযোগী সংগঠনগুলোকেও নির্দেশ দিয়েছে।
জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘৫ জুন হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে, তবে শক্তভাবে করা হবে। এটাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’
যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক চাপে পড়া জামায়াত চারদলীয় জোটকে সক্রিয় করতে অনেক চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিএনপি আগ্রহ না দেখানোয় এত দিন সে চেষ্টা সফল হয়নি। এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলনকে কাজে লাগাতে চায় দলটি।
জামায়াতের ঢাকা মহানগর শাখার সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই হরতালে জামায়াতের অংশগ্রহণ বেশি থাকবে।
এ ছাড়া চার দলের অন্যান্য শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিস ছাড়াও সমমনা ছোট ছোট কয়েকটি দল এ হরতাল কর্মসূচি সমর্থন করেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন